চিকেন কোরমা রেসিপি

চিকেন কোরমা রেসিপি | ঘরোয়া স্বাদে সহজ Chicken Korma

আমার ঘরোয়া চিকেন কোরমা রেসিপি 
চিকেন কোরমা আমার কাছে শুধু একটা রান্না নয়, এর সঙ্গে একটা সুন্দর ঘরোয়া অনুভূতি জড়িয়ে আছে। ছোটবেলায় বাড়িতে কোনো বিশেষ দিন বা অতিথি আসার আয়োজন হলে রান্নাঘর থেকে কোরমার ঘ্রাণ পেলেই বুঝতাম, আজ একটু ভালো-মন্দ রান্না হচ্ছে। 😊
এখন নিজের রান্নাঘরে কোরমা বানানোর সময়ও সেই ব্যাপারটা মনে পড়ে যায়। বিশেষ করে পেঁয়াজ আর গোটা মসলাগুলো ঘিতে ভাজার পর যে সুন্দর গন্ধটা বের হয়, তখন মনে হয়—আজকের রান্নাটা ভালোই হতে যাচ্ছে!
এই রেসিপিটা আমি খুব বেশি ঝাল বা মসলাদার করি না। বরং দই, কাজুবাদাম আর অল্প মিষ্টির কারণে কোরমাটা একটু মোলায়েম ও রিচ রাখতেই বেশি ভালো লাগে। গরম পোলাওয়ের সঙ্গে এই কোরমা আমার সবচেয়ে প্রিয়।
যা যা লাগবে
মুরগির মাংস – ১ কেজি
পেঁয়াজ কুচি – ২টি বড়
টক দই – ½ কাপ
আদা বাটা – ১ টেবিল চামচ
রসুন বাটা – ১ টেবিল চামচ
মরিচ গুঁড়া – ১ চা চামচ
হলুদ গুঁড়া – ½ চা চামচ
ধনে গুঁড়া – ১ চা চামচ
জিরা গুঁড়া – ½ চা চামচ
গরম মসলা গুঁড়া – ½ চা চামচ
কাজুবাদাম বাটা – ২ টেবিল চামচ
দারুচিনি – ২ টুকরা
এলাচ – ৩টি
তেজপাতা – ১টি
কাঁচা মরিচ – ৩–৪টি
চিনি – ½ চা চামচ
লবণ – স্বাদমতো
তেল বা ঘি – পরিমাণমতো
পানি – প্রয়োজনমতো
চিকেন ম্যারিনেট করে নেওয়া
মুরগির মাংস ধুয়ে পানি ঝরিয়ে প্রথমে ম্যারিনেট করে নিই। দই, আদা-রসুন বাটা, লবণ, মরিচ, হলুদ, ধনে আর জিরার গুঁড়া দিয়ে মাংসটা ভালোভাবে মেখে নিই।
এখানে আমি একটা জিনিস করতে পছন্দ করি—ম্যারিনেট করা চিকেন অন্তত ৩০ মিনিট রেখে দিই। তাড়াহুড়ো থাকলে অবশ্য কম সময়েও করা যায়, কিন্তু একটু সময় দিলে মসলার স্বাদটা মাংসে ভালোভাবে ঢুকে যায়।
এবার চিকেন কোরমা রেসিপি রান্না করি
কড়াইতে তেল বা ঘি গরম করে দারুচিনি, এলাচ আর তেজপাতা দিয়ে একটু নেড়ে নিই। গোটা মসলা থেকে গন্ধ বের হতে শুরু করলেই পেঁয়াজ দিয়ে দিই।
পেঁয়াজ ভাজার সময় আমি একটু ধৈর্য ধরতে বলব। পেঁয়াজটা হালকা সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। খুব বেশি কালো করে ফেললে কোরমার স্বাদ এবং রং দুটোই বদলে যেতে পারে।
এরপর ম্যারিনেট করা চিকেন দিয়ে ভালোভাবে কষাতে থাকি। এই সময়টায় রান্নাঘরে যে ঘ্রাণটা ছড়ায়, সেটাই আসলে আমার সবচেয়ে প্রিয় অংশ। 😄
চিকেন থেকে পানি বের হবে, তাই শুরুতেই বেশি পানি দেওয়ার দরকার নেই। মাংসটা মসলার সঙ্গে ভালোভাবে কষে নিলে এরপর কাজুবাদাম বাটা, সামান্য চিনি আর প্রয়োজনমতো পানি দিয়ে ঢেকে দিই।
কম আঁচে রান্না করার সময়
এখন আঁচটা কমিয়ে দিয়ে চিকেনটা ধীরে ধীরে রান্না হতে দিই। কোরমা রান্নায় আমার কাছে এই ধৈর্যটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মাঝে একবার ঢাকনা খুলে দেখে নিই চিকেন নরম হয়েছে কি না এবং ঝোলটা কেমন আছে। প্রয়োজন হলে অল্প পানি যোগ করি।
চিকেন নরম হয়ে গেলে গরম মসলা গুঁড়া আর কাঁচা মরিচ দিয়ে আরও ২–৩ মিনিট রান্না করি। চুলা বন্ধ করার পর কয়েক মিনিট ঢেকে রাখি। এতে মসলার ঘ্রাণটা আরও সুন্দরভাবে কোরমার মধ্যে মিশে যায়।

পরিবেশন
কোরমা তৈরি হলে আমি সাধারণত গরম পোলাওয়ের সঙ্গে পরিবেশন করি। উপরে সামান্য বেরেস্তা ছড়িয়ে দিলে দেখতে যেমন সুন্দর লাগে, খেতেও তেমন ভালো লাগে।
তবে পোলাও না থাকলেও সমস্যা নেই। গরম সাদা ভাত, নান বা রুটির সঙ্গেও এই কোরমা দারুণ লাগে।
আর সত্যি বলতে, রান্না শেষ হওয়ার পর যদি কড়াইতে একটু ঝোল বেঁচে থাকে, সেটুকু গরম ভাত দিয়ে মেখে খাওয়ার মজাটাও কিন্তু কম নয়! ❤️

ছোট্ট টিপস 
আমি কোরমায় ঝাল-মসলা খুব বেশি দিই না। কোরমার আসল মজা আমার কাছে এর মোলায়েম, রিচ গ্রেভিতে। তাই দই ও কাজুবাদামের পরিমাণ ঠিক রাখা এবং চিকেনটা ধীরে ধীরে কষানো—এই দুটো বিষয় আমি সবসময় খেয়াল করি।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কোরমা রান্নায় তাড়াহুড়ো করবেন না। একটু সময় নিয়ে কম আঁচে রান্না করলেই মাংস নরম হবে, মসলা ভালোভাবে মিশবে আর শেষ পর্যন্ত এমন একটা সুন্দর কোরমা পাবেন, যার গন্ধেই সবাই রান্নাঘরে এসে উঁকি দেবে! 😊